১৮৭০ সালের দিকে ভারতবর্ষের অনেক চা-বাগানে টি-টোকেনের ব্যবহার শুরু করে। চা শ্রমিদের মজুরি হিসেবে এই ধাতব টোকেন দেওয়া হতো।
আসাম-বেঙ্গল রেলপথ চালু হওয়ার আগ পর্যন্ত কলকাতা থেকে এসব চা-বাগানে ধাতব মুদ্রা পরিবহন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল ছিল। শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণে পাই, পয়সা ও আনার মতো ক্ষুদ্র মূল্যমানের মুদ্রার প্রয়োজন হতো। টাঁকশাল থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্ষুদ্র মূল্যমানের মুদ্রার সরবরাহ না থাকায়, মুদ্রা সংগ্রহের জন্য বাগান কর্তৃপক্ষকে অনেক ঝামেলা পোহাতে হতো এবং বড় অঙ্কের বাট্টা (কমিশন) গুনতে হতো। এই সংকট নিরসনে বড় বড় চা বাগানে তখন টি-টোকেনের ব্যবহার শুরু করে। টোকেন-পদ্ধতি চালুর পেছনে আরেকটি অন্তর্নিহিত কারণ ছিল।
কঠোর পরিশ্রম, বৈরী পরিবেশ আর অতি নিম্ন মজুরির কারণে শ্রমিকেরা প্রায়ই বাগান থেকে পালিয়ে যেতে চাইতেন। অনেকে সময় স্বজনদের দেখতে মন চাইলেও যাওয়ার উপায় ছিল না। কারণ টোকেনের বিপরীতে বাগানের ভেতরের নির্ধারিত দোকান থেকেই শুধু পণ্য কেনা যেত, বাগানের বাইরে থেকে এই এই টোকেনে কিছুই কিনা যেত না। বিনিময়মূল্য হিসেবে সরকার প্রচলিত মুদ্রা প্রাপ্তির কোনো সুযোগ ছিল না। আর বাগানের বাইরে এসব টোকেনের কোনো মূল্য ছিল না। ফলে শ্রমিকেরা চাইলেও বাগান ত্যাগ করতে পারতেন না।
প্রথম ছবি: ব্রিটিশ কোম্পানি ডানকান ব্রাদার্সের আওতাধীন লংলা চা-বাগানে ব্যবহৃত টোকেন। এটিতে মূল্যমান উল্লেখ নেই। তবে মুদ্রাসংক্রান্ত নিলামের অনলাইন পোর্টাল ‘নিউমিসবিডস’ থেকে ছবিটি সংগ্রহ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় ছবি: ভারতের কেরালা রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কানান দেভান হিল প্ল্যান্টেশনস কোম্পানি (কেডিএইচপি) কর্তৃক ব্যবহৃত দুই আনা মূল্যের টি-টোকেন। এটি ব্রোঞ্জের। প্রস্তুতকাল ১৮৯৯, ওজন ৬ দশমিক ৯১ গ্রাম, পুরুত্ব ২৭ মিমি। মুদ্রার মুখ্য দিকের মাঝ বরাবর শ্মশ্রুমণ্ডিত ব্যক্তির মুখ। আর গৌণ দিকে ফ্যাক্টরি বিল্ডিংয়ের ছবিসহ কেডিএইচপির নাম খোদাই করা। মুদ্রাসংক্রান্ত নিলামের অনলাইন পোর্টাল ‘নিউমিসবিডস’ হতে ছবিটি সংগ্রহ করা হয়েছে।
(সকল তথ্য প্রথম আলোতে প্রকাশিত গবেষক হোসাইন মোহাম্মদ জাকির "হারিয়ে যাওয়া সেই টি-টোকেন" শীর্ষক প্রবন্ধ থেকে নেওয়া।)

No comments:
Post a Comment